শূন্যপদ রেখেই প্রাথমিকে নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করা অযৌক্তিক

0
2305
শূন্যপদ রেখেই প্রাথমিকে নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করা অযৌক্তিক
শূন্যপদ রেখেই প্রাথমিকে নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করা অযৌক্তিক
সূর্পনা দে।।

শূন্যপদ পূরনের লক্ষ্যে প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক ২০১৮ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ৩০ জুলাই, ২০১৮ সালে প্রকাশিত হয়। এ নিয়োগ পরীক্ষায় দেশের ইতিহাসের রেকর্ড সংখ্যক ২৪ লাখ পরীক্ষার্থী আবেদন করেন। যার মধ্যে থেকে ৫৫ হাজার পরীক্ষার্থী লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়। যা মোট পরীক্ষার্থীর ২.৩%। চূড়ান্ত ভাবে ১৮ হাজার পরীক্ষার্থীদের নির্বাচিত করা হয়।

দেখার বিষয় হল যারা চূড়ান্ত ভাবে নির্বাচিত হয়েছেন তাদের সাথে বাকি ৩৭ হাজার নিয়োগ বঞ্চিতদের নম্বরের ব্যবধান মাত্র ২/১ নম্বরের। তাহলে তারাও মেধাবী নয়? তাদেরও কি নিয়োগ লাভের অধিকার নেই?

তাছাড়া ১৬ জুন ২০১৬, দৈনিক শিক্ষার নিজস্ব প্রতিবেদকের প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য মতে, প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২০০ জন শিক্ষক অবসরে যান। বর্তমানে প্রাথমিক শিক্ষকের পরিমাণ যেহেতু বেশি কাজেই অবসরে যাওয়ার পরিমাণও আগের চেয়ে বেশি। এর বিপরীতে নিয়মিত শিক্ষক নিয়োগ হচ্ছে না।


আরও পড়ুন


বিভিন্ন পত্রপত্রিকা ও মিডিয়ার প্রকাশিত তথ্যমতে, বর্তমানে প্রায় ৪০ হাজারেরও অধিক সহকারি শিক্ষকের শুন্যপদ রয়েছে। সহকারী শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে ৮নং শর্তে উল্লেখ করা হয়েছে, বিদ্যমান শূন্যপদসমূহে নিয়োগের চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রস্তুত করে নিয়োগ দানের ব্যবস্থা নেয়া হবে। কিন্তু হাজার হাজার শূন্যপদ খালি রেখেই নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয় । শুধু শূন্য পদই নয় তীব্র শিক্ষক সংকট থাকা সত্ত্বেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লিখিত শর্ত যথাযথভাবে পূরণ করে নিয়োগ দেয়া হয়নি যেটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির নিয়মের সাথে সাংঘর্ষিক।

উদাহরণ হিসেবে, আমার মৌলভীবাজার জেলার রাজনগর উপজেলায় ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ১০৪ টি শূন্যপদ থাকার পরেও ২০২০ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারী তারিখে পদায়ন করা হয় মাত্র ৬৭ জনকে। ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বরের পরে আরো অনেক পদ খালি হয়ে গেছে বদলীজনিত, মৃত্যুজনিত, পদত্যাগজনিত, অবসরজনিত কারনে। শূন্যপদের ভিত্তিতে সার্কুলার থাকার পরেও কেনো বাকি শূন্য পদে আমাদের নিয়োগ বঞ্ছিত রাখা হবে?

মৌলভীবাজারের স্কুলগুলোতে শিক্ষক সংকটের চিত্র।।

হাজার হাজার শূন্যপদ খালি থাকার কারণে ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রচুর শিক্ষক সংকট থাকার কারণে ব্যাহত হচ্ছে প্রাথমিক শিক্ষার মান এবং যথাযথ শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। তাছাড়া দীর্ঘ ৪ বছর পর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হওয়ায় অনেক পরীক্ষার্থীদের চাকরির বয়স ও শেষ হয়ে গিয়েছে। আর নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে চূড়ান্ত নিয়োগ কার্যক্রম শেষ করতে প্রয়োজন আরও ২ বছরের অধিক সময়। যার ফলে ভয়াবহ আকার ধারণ করবে প্রাথমিক শিক্ষক সংকট।

তাই প্রাথমিক শিক্ষা খাতের চরম শিক্ষক সংকট ও শিক্ষার মান উন্নয়নে প্রাথমিক সহকারি শিক্ষক ২০১৮ প্যানেলে নিয়োগ নিয়ম প্রবর্তন করা হচ্ছে একমাত্র সমাধান। এর মাধ্যমে দূর করা যাবে বেকারত্ব, উন্নয়ন করা যাবে শিক্ষার মান ও নির্মূল করা যাবে চরম শিক্ষক সংকট।

লেখক।।
সূর্পনা দে
প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারি শিক্ষক নিয়োগ ২০১৮ প্যানেল প্রত্যাশী মৌলভীবাজার জেলা

FB Comments

Leave a Reply