মাত্র ২ জন শিক্ষক নিয়ে চলছে নামা রাথুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

0
841
মাত্র ২ জন শিক্ষক নিয়ে চলছে নামা রাথুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়
মাত্র ২ জন শিক্ষক নিয়ে চলছে নামা রাথুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়
সুমনা আকন্দ।।

শিক্ষা জীবনের প্রথম ধাপই হচ্ছে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অর্জিত শিক্ষা। আর এই প্রথম ধাপ থেকেই বঞ্চিত হচ্ছে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছোট ছোট শিক্ষার্থীরা। যারা এখনো বুঝতে শিখেনি শিক্ষক সংকট কি অথচ তারাই প্রথম শিক্ষা জীবনে সম্মুখীন হচ্ছে শিক্ষক সংকট নামক চরম বাঁধার।

আজকের শিশুরা আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। আর আজকের শিশুরা যদি আগামী দিনের ভবিষ্যৎ ই হয় তাহলে মাত্র ১ জন শিক্ষক দিয়ে পরিচালিত ৭৪৯ টি বিদ্যালয়, মাত্র ২ জন শিক্ষক দিয়ে পরিচালিত ১১২৪ টি বিদ্যালয় এবং মাত্র ৩ জন শিক্ষক দিয়ে পরিচালিত ৪০০৮ টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুরা সত্যিই কি পারবে আগামী দিনের ভবিষ্যৎ হয়ে উঠতে!! যা কল্পনাতীত।

মানসম্পন্ন শিক্ষার অন্তরায় হচ্ছে চরম শিক্ষক সংকট। শিক্ষক সংকট যখন চরম আকার ধারণ করে জাতি গঠনে হুমকি স্বরুপ হয়ে দাঁড়ায় তখন তা দ্রুত সমাধান করা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকেনা। শিক্ষক সংকটময় বিদ্যালয়ের দিকে দৃষ্টিপাত করলে শিক্ষার্থীদের অনিশ্চিত ভবিষ্যৎতের ছায়া প্রতিফলিত হয়। বাংলাদেশের প্রাথমিক বিদ্যালয় গুলোর শিক্ষক সংকট যেনো জ্যামিতিক হারে বেড়েই চলেছে। কিন্তু প্রতিদিন কোথাও শিক্ষক সংকটের সমাধান করা হচ্ছেনা।


আরও পড়ুন


উদাহারন স্বরুপ গাজীপুর জেলার কালীগঞ্জ উপজেলায় নামা রাথুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। স্থাপিত ০১/০১/১৯৮৭ ইং। পুনঃ নির্মাণ করা হয় ১৯৯৯-২০০০ ইং এবং বিদ্যালয়টি জাতীয়করণ করা হয় ২০১৩ সালে। ২০১৩ সাল থেকেই এখন পযর্ন্ত উক্ত বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূণ্য রয়েছে। যেখানে একটি বিদ্যালয়ে ৬ জন শিক্ষক থাকার কথা সেখানে শিক্ষক রয়েছে মাত্র ২ জন। খাতা কলমে ৩ জন শিক্ষক থাকলেও প্রকৃত পক্ষে শিক্ষক রয়েছে মোট ২ জন। কারন ৩ জনের মধ্যে একজন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক যিনি বর্তমানে অন্য একটি বিদ্যালয়ে আছেন ডেপুটেশনে। সেখানে সহকারী শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন।উল্লেখিত বিদ্যালয় টি বর্তমানে মাত্র ২ জন সহকারী শিক্ষক দিয়েই পরিচালিত হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সামলে নিতে ২ জন শিক্ষক প্রতিনিয়ত হিমশিম খাচ্ছেন।

বিদ্যালয়ের এমন বেহাল অবস্থা দেখে অভিবাবকরা তাদের সন্তানদের উক্ত বিদ্যালয়ে পাঠাতে আগ্রহ প্রকাশ করছেনা। বাড়ির পাশে বিদ্যালয় থাকার পরেও অধিকাংশ শিক্ষার্থীরা দূরদূরান্তে কিন্ডারগার্টেন বিদ্যালয়ে চলে যাচ্ছে শিক্ষা অর্জনের জন্য। আর এর কারনে শিক্ষার্থীদের ঝড়ে পরার প্রবণতাও দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। কারন কিন্ডারগার্টেনে পড়ানোর মত যথেষ্ট অর্থ অনেক দরিদ্র বাবা মায়ের থাকে না।

অপর দিকে আমরাই সেই প্রার্থী যারা ২০১৮ সালে রেকর্ড করা ২৪ লক্ষ প্রার্থীর সাথে প্রতিযোগিতা করে মাত্র ৫৫ হাজারে উত্তীর্ণ হই যা মোট প্রার্থীর ২.৩%। সেখান থেকে মৌখিক পরীক্ষার পর ১৮,০০০ হাজার প্রার্থীকে চূড়ান্ত নিয়োগের জন্য সুপারিশ প্রাপ্ত করা হলেও নিয়োগ বঞ্চিত হই আমরা ৩৭,০০০ প্রার্থী। মৌখিকে কোনো ফেল নেই কারন মোখিকে উপস্থিতি থেকে শুরু করে সবাই ১৫/১৬ পেয়েছি। যারা চূড়ান্ত ভাবে নির্বাচিত হয়েছে তাদের সাথে আমাদের ১/২ নাম্বারের ব্যবধান ছিলো মাত্র। সার্কুলারে শূণ্য পদের বিপরীতে নিয়োগ দেয়া হবে কথাটা স্পষ্টভাবে উল্লেখিত থাকলেও চূড়ান্ত নিয়োগের সময় প্রায় ২৯,০০০ হাজার শূণ্য পদ রেখেই কেনো নিয়োগ কার্যক্রম সম্পুন্ন করা হলো!!

কেনো নিয়োগ বঞ্চিত হলাম আমরা ৩৭,০০০ হাজার প্রার্থী এর উত্তর কোথায় মিলবে? যার কারনে শিক্ষক সংকট এখন চরম পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। আমরা চাই নিয়োগ বঞ্চিত ৩৭,০০০ হাজার প্রার্থীকে সেই শূণ্য পদ গুলোতে প্যানেলের মাধ্যম নিয়োগ দেয়া হোক। করোনার কারনে শিক্ষার যে ক্ষতি হয়েছে তা পুষিয়ে নিয়ে আমরা শিক্ষার্থীদের দেশের সম্পদে পরিণত করার দায়িত্ব নিতে চাই। প্রাথমিকে প্যানেলে নিয়োগ পেয়ে আমরা ৩৭,০০০ হাজার শিক্ষক দেশমাতৃকার তরে নিজেদের উৎসর্গ করে দেয়ার সুযোগ চাই। প্যানেলই হোক মুজিব বর্ষের দেয়া শ্রেষ্ঠ উপহার। প্যানেলই হোক ৩৭,০০০ হাজার পরিবার আলোকিত করার উজ্জ্বল প্রদীপ শিখা।

লেখক।।
সুমনা আকন্দ
সহ-সভাপতি
প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ ২০১৮ প্যানেল প্রত্যাশী কেন্দ্রীয় কমিটি।

FB Comments

Leave a Reply