রহস্যজনক আগুনের ঘটনায় মামলা: গ্রেফতার-১২

0
124
ফাইল ছবি।

ক্রান্তিকাল রিপোর্ট – ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডঙ্গীর চাড়োল ইউনিয়নের ছোট সিঙ্গিয়া মুন্সিপাড়া গ্রামে গত ২৯ মার্চ থেকে শুরু হওয়া রহস্যজনক আগুনের ঘটনায় মামলা রুজু করা হয়েছে। পুলিশ তাৎক্ষনিক অভিযান চালিয়ে ১২ জনকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। গত বৃহস্পতিবার ওই গ্রামের সালেহা বেগম বাদী হয়ে বালিয়াডাঙ্গী থানায় এ মামলাটি দায়ের করেছেন।

মামলার বিবরণে জানা যায়, সালেহা বেগমের স্বামীর মৃত্যুর পর প্রতিপক্ষের সাথে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সমস্যা চলছিল। এ অবস্থায় ২৮ মার্চ দুপুরে কে বা কাহারা তার ঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ সময় আশ পাশের বেশ কয়েকটি বাড়িঘর, খড়িঘরসহ বিভিন্ন স্থানে আগুন ধরিয়ে দিয়ে আর্থিক ক্ষতিসাধণ করে। পরে প্রতিবেশী ইনতাজ আলীর বাড়িতে কাপড় কাঁচার বালতিতে আগুন লেগেছে বলে এলাকায় গুজব ছড়িয়ে দেয় প্রতিপক্ষরা। প্রতিপক্ষের লোকজন সালেহা বেগমের বাড়িতে এসে অশ্লিল আচরণ শুরু করে। এ অবস্থায় পরবর্তীতে প্রতিপক্ষের লোকজন সালেহা বেগমের পরিবারের কোন ক্ষতি করতে পারে ভেবে বালিয়াডঙ্গী থানায় এ মামলা দায়ের করেছেন তিনি।

মামলায় গ্রেফতারকৃতরা হলেন, ওই গ্রামের কফিল উদ্দিনের ছেলে সামসুজ্জুহা (৩৫), নজরুল ইসলামের ছেলে এহেতাসাম (৪২), মৃত মোহাম্মদ আলীর ছেলে মোকসেদুল ইসলাম (৪২), মৃত এমাজ আলীর ছেলে এন্তাজ আলী (৫০), এন্তাজ আলীর ছেলে দেলোয়ার হোসেন (৩৫), মৃত সেরাজুল হকের ছেলে কফিল উদ্দিন (৫৯), নজরুল ইসলামের ছেলে ওবায়দুল্লাহ (৪০), নজরুল ইসলামের ছেলে তহিদুর রহমান (৩৯), মৃত মোহাম্মদ হোসেনের ছেলে আজিম উদ্দীন চৌধুরী, ইব্রাহিমের ছেলে মন্টু আলম (৩১), এন্তাজ আলীর মেয়ে মেহেরুন নেছা ও দেলোয়ারের স্ত্রী বিলকিস আক্তার। বর্তমানে মামলাটি ডিবি পুলিশ তদন্ত করছে।

এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও ডিবি পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, আজ সারাদিন আগুন ধরার খবর পাওয়া যায়নি। এই মানুষগুলোর সাথে আগুনের ঘটনায় সম্পৃক্ততা আছে কিনা বা তারা নিজেরাই আগুন লাগিয়ে দেয় কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, গ্রেফতারকৃতদের সাথে আগুনের সম্পর্ক রয়েছে(সম্ভাব্য) আমাদের হাতে কিছু প্রমান এসেছে এবং আমাদের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। এই ১২ জনের মধ্যে যাদের ঘরে আগুন লেগেছে তারাও রয়েছে আবার আশপাশের লোকজনও রয়েছে।

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার ওই গ্রামের বেশ কয়েকটি বাড়িতে বিভিন্ন সময় রহস্যজনকভাবে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। পরে জেলা প্রশাসক ড. কেএম কামরুজ্জামান সেলিম, বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা নির্বাহী অফিসার যোবায়ের হোসেন, স্থানীয় উপজেলা চেয়ারম্যান আলী আসলাম জুয়েল, ইউপি চেয়ারম্যান দিলীপ কুমার চ্যাটার্জীসহ প্রশাসনের লোকজন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরে সেখানে গ্রাম পুলিশ পাহারা বসানো হয়।

FB Comments

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে