নির্বাচনী সহিংসতা রোধ চাই

0
261

বাংলাদেশের রাজনীতিতে নির্বাচন বিষয়ে আলোচনা করতে হলে দুটি বিষয় আমাদের মাথায় আসে-একটি হল উৎসব, অন্যটি সহিংসতা। নির্বাচন নিয়ে অতীত স্মৃতি আমাদের যতটা আনন্দের, তার চেয়ে বেশি ভয়ের। এই ভয় হল নির্বাচনী সহিংসতা। দেশে নির্বাচনী সহিংসতা যেন স্বাভাবিক বিষয়ে পরিণত হয়েছে। আমাদের দেশের বিগত প্রায় সব জাতীয় এবং স্থানীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করলে নির্বাচনী সহিংসতার চিত্র ফুটে উঠে। এ নির্বাচনী সহিংসতা বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে পরিনত হয়েছে কিন্তু এটি কোনো সভ্য দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি হতে পারে না বরং এটি রাজনৈতিক অপসংস্কৃতি।

চসিক-এ নির্বাচনের দিন সকাল থেকে সহিংসতা শুরু হয়। নির্বাচনী সহিংসতায় নিজাম উদ্দীন মুন্না এবং মো. আলাউদ্দিন আলম নামে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। নিজাম উদ্দীন মুন্না বিরোধী সমর্থক তার আপন ভাইয়ের ছুরিকাঘাতে নিহত হয় এবং তাদের মা এক ছেলেকে হত্যার দায়ে অন্য ছেলের ফাঁসি চেয়েছেন। অন্যদিকে ছেলের মৃত্যু সংবাদ শুনে নিহত আলাউদ্দিন আলমের মা তার নিজ বাড়িতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। এর আগে নির্বাচনী প্রচারণা চলাকালেই সহিংসতায় আজগর আলী বাবুল এবং আশিকুর রহমান রোহিত নামে দু’জনের মৃত্যু হয়। শুধুমাত্র সদ্য শেষ হওয়া চসিকের নির্বাচনী সহিংসতা থেকে দেখা যায় এ পর্যন্ত পাঁচজন নিহত এবং হত্যার দায়ে একজনের জীবন সংশয়ে আছে।

এখানে উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে, পরিস্থিতি সামাল দিতে নির্বাচন কমিশন ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, সহিংসতা দূর করতে নির্বাচন কমিশন কঠোর হচ্ছে না কেন? নির্বাচনের সময় যেহেতু স্থানীয় প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা মেনে চলে তাই এই পরিস্থিতির দায় নির্বাচন কমিশনকে নিতে হবে। নির্বাচন কমিশন একটি স্বাধীন ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য এই প্রতিষ্ঠানকে অগাধ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এই ক্ষমতা প্রয়োগের বিষয়টি নির্ভর করে নির্বাচন কমিশনের দৃঢ়তার ওপর। দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা, স্থিতিশীলতা এবং দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল রাখার জন্য আমাদেরকে নির্বাচনী সহিংসতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। এজন্য নির্বাচনী সহিংসতায় জড়িত ব্যাক্তি এবং তাদের পৃষ্ঠপোষকদের কঠিন শাস্তির আওতায় আনতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলো এ ধরনের সহিংসতার কারণ রাজনৈতিক নয় বরং সামাজিক-পারিবারিক এবং ব্যাক্তিগত পূর্ব শত্রæতার জের হিসেবে অভিহিত করে যেন নির্বাচনী সহিংসতাকে বৈধ বলেই স্বীকৃতি দিয়েছে। তাই নির্বাচনের আগে-পরে সহিংসতা ঠেকাতে এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর হতে হবে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শান্তি স্থাপনে আমাদের শান্তিরক্ষী বাহিনী গুরুত্বপূর্ণ ভ’মিকা পালন করে আসছে এবং বাংলাদেশের মাটিতেও সর্বমহলে এ বাহিনীর সর্বোচ্চ সম্মান এবং গ্রহণযোগ্যতা আছে। তাই নির্বাচনী সহিংসতা প্রতিরোধ করতে এই বাহিনীকে কাজে লাগাতে হবে। নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে যিনি দায়িত্বপ্রাপ্ত হবেন তাকে বুঝতে হবে তিনি নির্দিষ্ট কোনো দলের নয়, জনগণের পক্ষ থেকে দায়িত্বপ্রাপ্ত। সুতরাং প্রত্যেক নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা তার দায়িত্ব। একই সঙ্গে রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের স্বরণ রাখতে হবে, দেশের মানুষের কল্যাণের জন্যই রাজনীতি এবং নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কাজ হল জনগণের কল্যাণ ও উন্নয়ন সাধন।

 

লেখক

নজরুল ইসলাম ভুঁইয়া

FB Comments

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে