অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্থদের কাছে উপহার নিয়ে ছুঁটে গেলেন তিনি

0
245

গত রোববার (৪ এপ্রিল) রাতে সদর উপজেলার নতুন সেনুয়া ইউনিয়নের(পূর্বের বড়গাঁও) চামেশ্বরী গ্রামে খেটে খাওয়া গরীব মানুষগুলো যখন রাতের খাবার খেয়ে ঘুমাচ্ছিলো তখন  আবদুল হাইয়ের বাসার রান্নাঘর থেকে অনাকাঙ্খিতভাবে দুর্ঘটনাবশত আগুন লেগে ৯ টি পরিবারের বসতবাড়ি পুড়ে যায়। একটি অগ্নিকান্ড শুধু টিন চাতাই আর খরকুটো পুড়িয়ে ক্ষতিগ্রস্থ করেনা মানুষকে। পুড়ে যায় বা ক্ষতিগ্রস্থ হয় তিল তিল করে গড়ে তোলা একেকটি মানুষের কষ্টে অর্জিত  স্বপ্নের বুনিয়াদি। স্বপ্ন, স্বাদ, আশা- আকাঙ্খা যখন চোখের সামনে পুড়ে ছাই হয়ে যায় তখন ওই ব্যক্তিটি কতটা দিশেহারা হয়ে যায়, তা  অনুভব করার মন মানসিকতা খুব কম সংখ্যক মানুষের থাকে।

ওই পরিবারগুলোকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন।সরকারের এ উপহারের পাশাপাশি এগিয়ে এসেছেন  নাজমুল হুদা শাহ মো: এ্যাপোলো।

ঠিক ধরেছেন। হ্যাঁ তিনি ঠাকুরগাঁও জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগ সভাপতি নাজমুল হুদা শাহ্ মো: এ্যাপোলো।  যিনি করোনা মহামারির কঠিন সময়ে মানুষের পাশে রয়েছেন, যিনি শীতার্ত মানুষের শীত নিবারনে পাশে থেকেছেন, যিনি বন্যার্ত মানুষের পাশে থেকেছেন, যিনি বিভিন্ন ধর্মীয়  উৎসবে গরীব মানুষের আনন্দ মলিন হতে দেবেননা বলে রাতের আঁধারে বসায় ডেকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন।

কোন সরকারি অর্থ নয়। তিনি এসব করেছেন তাঁর আয়ের অংশ থেকে একান্ত নিজ উদ্যোগে। মানুষকে ভালোবেসে। মানুষের উপকার করার চরম মনোভাব থেকে। এবারেও তিনি সব জেনে বুঝে থেমে থাকেননি। পরোপকারী এই মানুষটির সেবা থেকে বঞ্চিত হননি বা সেবার কোন খামতি রাখেননি। হৃদয়ে নারা দিতে কখনোই দেরি হয়না তার। এক পা এগিয়ে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্থদের কাছে উপহার নিয়ে ছুঁটে গেলেন তিনি। এবারেও তার সহযোগিতায় সঙ্গে একঝাঁক তরুন- যুবক।  যারা স্বেচ্ছাসেবকলীগের একনিষ্ট কর্মী। যারা এই  স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা এ্যাপোলো’র নেতৃত্বে গোটা জেলায় স্বেচ্ছাসেবকলীগের মানবিক ঝান্ডা উড়িয়ে জানান দেয় আমরা মানুষের পাশে আছি।

এরই ধারাবাহিকতায় সাদা ব্যাগের ভেতরে করে চাল, আটা, তেল, লবণ, আলু, ডাল, বুট, বিস্কুট, সাবান, মাক্স,নগদ অর্থ সহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রী নিয়ে ছুঁটে যান ওইসব ক্ষতিগ্রস্থ মানুষদের কাছে।

এ সময় জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি  নাজমুলহুদা শাহ মো: এ্যাপোলো ক্ষতিগ্রস্থদের  হাতে  উপহার সামগ্রী  তুলে দিয়ে বলেন, আগুনের লেলিহান শিখা যতটা নিষ্ঠুর আমরা ঠাকুরগাঁও স্বেচ্ছাসেবকলীগ তারচেয়ে বেশি মানবিক। প্রয়োজনে অমাদের পাশে পাবেন। আমাদের সাধ্যমতো আমরা চেষ্টা করবো আপনাদের সমস্থকিছু গুছিয়ে দেবার। এসময় তিনি সমাজের বিত্তবানদেরও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে আহ্বান করেন। তিনি বলেন, আমরা একে অপরের প্রতি মানবিক না হলে আমরা কখনোই একটি মানবিক সমাজ বিনির্মান করতে পারবোনা।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন স্বেচ্ছাসেবক লীগের কাজ হচ্ছে জনগনের কল্যাণে মানুষের সেবা করা। যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিপদে জনগনের পাশে দাঁড়াবে এটাই আমাদের কাজ। এরই লক্ষে আজ আমরা এখানে এসেছি। আমরা সব সময় চেষ্টা করে সমাজের অবহেলিত মানুষদের পাশে দাঁড়াবার। এরই লক্ষে কাজ করে যাচ্ছে স্বেচ্ছাসেবকলীগ।

উপহার গ্রহণ করার পর ওই মানুষগুলোর চোখের দিকে তাকাতেই হৃদয় আনন্দে বানভাসী হয়ে যায়। কি আনন্দচ্ছোল মুখ। ঘর পুড়ে ছাই হওয়ার পরেও এই হাসি কারন জানতে কার না মন চায়? কারন একটাই? সর্বস্ব হারিয়ে হতাশা যখন বাসা বাঁধা তখন মানুষ অর্থবিত্ত চায়না। শুধু যায় একটি ভরসার হাত। একটি মশৃণ কণ্ঠ। যে কন্ঠে ভেসে আসবে মানবিক সুর। বলবে ভয় নেই। আমি আছি তো। লড়ে যাবো যত নিষ্ঠুরতার সাথে। হ্যাঁ। এই সাহসটুকু দিয়েছেন এই স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা। যার কারনে দেখতে ভালো লাগছিলো এই মানুষগুলোর মুখের হাসি। সব হারিয়ে মানুষ তৃপ্তির হাসি দেয় একটুকরো ভরসার হাতছানি দেখেই।

আসুন অসহায়দের ভরসা হই। অসহায়রা যখন কান্না করে তখন চোখের জল মুছে দেওয়ার দায়িত্ব আগবারিয়ে নেই। একটু একটু করে ভালোকাজগুলো করি। একটা সময় এক পাহার মানবতা থেকে এক পৃথিবী মানবতার জন্ম হয়ে যাবে।

লেখক: ধ্রুব আহসান(ছদ্মনাম)

FB Comments

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে